চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও সকল সিটের ভাড়া জেনে নিন

আজকে আমরা কথা বলবো চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে। আপনি যদি ঢাকা থেকে খুলনা এই চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে যাতায়াত করতে চান অথবা নিয়মিত চলাচলের করতে চাচ্ছেন তাহলে তাহলে আজকের এই আর্টিকেল শুধুমাত্র আপনার জন্য।

 

আমরা আজকের এই আর্টিকেল টি তে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও টিকিটের মূল্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। যদি এই ট্রেন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে পোষ্ট টি শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত মনোযোগ সহকারে পড়ুন। তো চলুন শুরু করা যাক আজকের পোস্ট।

 

আর্টিকেলের প্রথমে আমরা জানবো চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে প্রথমে আমরা সময়সূচি সম্পর্কে সকল বিষয়বস্তু তুলে ধরার চেষ্টা করব অর্থাৎ আপনাদের সাথে একটা বক্স শেয়ার করার চেষ্টা করব অর্থাৎ টেবিল এর মত যা আপনাদের সময়সূচি বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে সম্পর্কে সঠিক তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করব এরপর আমরা ভাড়ার বিষয়ে সম্পর্কে সকল বিষয়বস্তু তুলে ধরার চেষ্টা করব তো চলুন শুরু করা যাক আজকের আর্টিকেলটি।

 

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ঢাকা টু খুলনা অথবা খুলনা টু ঢাকা রোডে চিত্রা এক্সপ্রেস একটি আন্তঃনগর ট্রেন। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথম যাত্রা শুরু করে ২০০৭ সালে আগস্ট মাসের ৭ তারিখে। এই ট্রেনটির নাম্বার হল: ৭৬৩/৭৬৪। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি তে সর্বমোট বগির সংখ্যা রয়েছে ১২ টি আর বগিতে মোট আসন সংখ্যা রয়েছে ৮০১ টি। এই ট্রেন টি দিয়ে সকল স্তরের লোকেরাই চলাচল করে। তার কারণ হল: এই ট্রেনের ভাড়ার তেমন একটা বেশি না। তাই চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রী কাছে এত জনপ্রিয়।

 

ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে:

  • ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৭ টায় ছেড়ে যায়।
  • ট্রেনটি মাওয়ায় রাত ১১ টা ৩০ মিনিটে, যশোরে ভোর ৪ টা ৪০ মিনিটে, বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভোর ৫ টা ৪০ মিনিটে এবং খুলনায় ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে পৌঁছায়।

 

খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে:

  • ট্রেনটি খুলনার রেলওয়ে স্টেশন থেকে সকাল ৯ টায় ছেড়ে যায়।
  • ট্রেনটি বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে, যশোর সকাল ১২ টা ৪০ মিনিটে, মাওয়া সকাল ৬ টা ৪০ মিনিটে এবং ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বিকেল ৫ টা ৫৫ মিনিটে পৌঁছায়।

 

চিত্রা এক্সপ্রেস একটি আধুনিক ট্রেন। ট্রেনটিতে প্রথম শ্রেণির এসি কেবিন, দ্বিতীয় শ্রেণির এসি কেবিন, তৃতীয় শ্রেণির এসি কেবিন, প্রথম শ্রেণির চেয়ার, দ্বিতীয় শ্রেণির চেয়ার এবং তৃতীয় শ্রেণির চেয়ার রয়েছে। ট্রেনে ওয়াশরুম, ক্যাফেটেরিয়া এবং বিশ্রামাগার রয়েছে।

চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকা এবং খুলনার মধ্যে ভ্রমণের জন্য একটি জনপ্রিয় এবং নির্ভরযোগ্য ট্রেন। এই ট্রেনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের টিকিট মূল্যের কারণে যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা টু খুলনা রোডে জনপ্রিয় ও বিলাশবহুল। এই ট্রেনটি দিয়ে প্রতিদিন হাজারো যাত্রী চলাচল করে থাকে। চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে ছয়দিন চলাচল করে সোমবারে দিন ট্রেনের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকে। নিচে ট্রেনের সময়সূচী দেওয়া হল:

 

স্টেশনের নাম ছুটির দিন পৌঁছানোর সময় ছুটির দিন
ঢাকা টু খুলনা সোমবার ১৯:০০ টায় ০৩:৪০ মিনিট
খুলনা টু ঢাকা সোমবার ০৯:০০ টায় ১৭:৫৫ মিনিট

 

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের কোনো অফ-ডে নেই। এই ট্রেনটি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী চলাচল করে। ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭ টায় ছেড়ে যায় এবং ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি সকাল ৯ টায় ছেড়ে যায় এবং বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়।

তবে, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলে চিত্রা এক্সপ্রেসও বন্ধ থাকতে পারে। এছাড়াও, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো বিশেষ সিদ্ধান্তের কারণেও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকতে পারে।

চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের মূল্য বা ভাড়ার তালিকা

যদি চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন দিয়ে যাতায়াত করতে চান তাহলে এই ট্রেনের টিকিটের মূল্য সম্পর্কে জানতে হবে। যদি টিকিটের মূল্য জানা থাকে তাহলে চলাচল করা অনেক সহজ হবে। এছাড়া ও চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট বা অন্যান্য সকল ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কেনা যায়। নিচে টেবিল আকারে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের মূল্য দেওয়া হল:

See also  বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা ২০২৩
আসন বিভাগ টিকিটের মূল্য
শোভন ৫০৫ টাকা
প্রথম সিট ৬৭০ টাকা
প্রথম বার্থ ১০০৫ টাকা
স্নিগ্ধা ৮৪০ টাকা
এসি সিট ১০০৫ টাকা
এসি বার্থ ১৫০৫ টাকা

এই আর্টিকেল টি তে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়ার তালিকা বা টিকিটের মূল্য সহ বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হয়েছে। যদি অন্য কোন ট্রেন সম্পর্কে জানতে চান তাহলে কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ সবাইকে।

 

চিত্রা এক্সপ্রেসের ইতিহাস

চিত্রা এক্সপ্রেস বাংলাদেশের দুটি প্রধান শহর ঢাকা এবং খুলনার মধ্যে চলাচলকারী একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেনটি ১৯৯০ সালের ১০ ডিসেম্বর চালু হয়। ট্রেনটিতে মোট ১২টি বগি রয়েছে এবং আসনসংখ্যা ৭৮১টি। ট্রেনটিতে প্রথম শ্রেণির এসি কেবিন, দ্বিতীয় শ্রেণির এসি কেবিন, তৃতীয় শ্রেণির এসি কেবিন, প্রথম শ্রেণির চেয়ার, দ্বিতীয় শ্রেণির চেয়ার এবং তৃতীয় শ্রেণির চেয়ার রয়েছে।

চিত্রা এক্সপ্রেসের ইতিহাস:

১৯৮০-এর দশকে ঢাকা এবং খুলনার মধ্যে দ্রুততম যাতায়াত ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এর ফলে বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি আধুনিক ট্রেন চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। ট্রেনটি নির্মাণের জন্য চীন সরকার থেকে সহায়তা নেওয়া হয়।

১৯৯০ সালের ১০ ডিসেম্বর চিত্রা এক্সপ্রেস চালু হয়। ট্রেনটি ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যশোর হয়ে খুলনা পৌঁছায়। ট্রেনটিতে প্রথম শ্রেণির এসি কেবিন এবং দ্বিতীয় শ্রেণির এসি কেবিন ছিল। ২০০৭ সালে ট্রেনে তৃতীয় শ্রেণির এসি কেবিন যুক্ত করা হয়। ২০১৭ সালে ট্রেনে প্রথম শ্রেণির চেয়ার যুক্ত করা হয়।

চিত্রা এক্সপ্রেসের বর্তমান অবস্থা:

চিত্রা এক্সপ্রেস বর্তমানে বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। ট্রেনটি প্রতিদিন দুবার চলাচল করে। ঢাকা থেকে খুলনার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি সন্ধ্যা ৭ টায় ছেড়ে যায় এবং ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ট্রেনটি সকাল ৯ টায় ছেড়ে যায় এবং বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। ট্রেনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের টিকিট মূল্যের কারণে যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়।

ট্রেনের সুযোগ-সুবিধা

চিত্রা এক্সপ্রেস একটি আধুনিক ট্রেন। ট্রেনটিতে যাত্রীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

ট্রেনের সুযোগ-সুবিধাগুলি হল:

  • আধুনিক আসন ব্যবস্থা: ট্রেনে প্রথম শ্রেণির এসি কেবিন, দ্বিতীয় শ্রেণির এসি কেবিন, তৃতীয় শ্রেণির এসি কেবিন, প্রথম শ্রেণির চেয়ার এবং দ্বিতীয় শ্রেণির চেয়ার রয়েছে। সকল শ্রেণির আসন ব্যবস্থাই আধুনিক এবং আরামদায়ক।
  • ওয়াশরুম: ট্রেনে প্রতিটি বগিতে একটি করে ওয়াশরুম রয়েছে। ওয়াশরুমে পানির ব্যবস্থা রয়েছে।
  • ক্যাফেটেরিয়া: ট্রেনে একটি ক্যাফেটেরিয়া রয়েছে। ক্যাফেটেরিয়ায় বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং পানীয় পাওয়া যায়।
  • বিশ্রামাগার: ট্রেনে একটি বিশ্রামাগার রয়েছে। বিশ্রামাগারে যাত্রীরা বিশ্রাম নিতে পারেন।

ট্রেনের এই সুযোগ-সুবিধাগুলি যাত্রীদের জন্য ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক করে তোলে।

উপসংহার

চিত্রা এক্সপ্রেস বাংলাদেশের দুটি প্রধান শহর ঢাকা এবং খুলনার মধ্যে চলাচলকারী একটি জনপ্রিয় ট্রেন। ট্রেনটি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের টিকিট মূল্যের কারণে যাত্রীদের কাছে জনপ্রিয়।

চিত্রা এক্সপ্রেসে ভ্রমণের জন্য অনলাইনে বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে টিকিট কিনতে পারবেন। ট্রেনের সময়সূচী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইটে বা রেলওয়ে স্টেশনে যোগাযোগ করতে পারবেন।

চিত্রা এক্সপ্রেসে ভ্রমণ করে আপনি বাংলাদেশের সুন্দর প্রকৃতি উপভোগ করতে পারবেন। ট্রেনটি ঢাকা থেকে খুলনার পথে মাওয়া, যশোর, বেনাপোল সীমান্তসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান দিয়ে চলাচল করে। আশা করি, চিত্রা এক্সপ্রেস নিয়ে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্য অনেক উপকারী হয়েছে।

Leave a Comment