পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম। গ্যাস্ট্রিক কমাতে যোগাসন করুন

প্রিয় পাঠক , আজকের আমি, পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম, পেটে গ্যাস এর লক্ষণ, ঔষধ, চিরতরে গ্যাস্ট্রিক দূর করার ব্যায়াম, পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম এ বিষয় সম্পর্কে আপনাদের সঠিক ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করব। 

আপনি কি গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়, সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না  এবং এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার হোমিও ঔষধ সম্পর্কে জানতে চাচ্ছেন? তাহলে  ধৈর্য ধরে আমার পুরো পোস্টটি পড়তে থাকুন এবং সেই অনুযায়ী কাজ করুন তাহলে আশা করি গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।

পেটে গ্যাস এর লক্ষণ

পেটে গ্যাসের লক্ষণগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে:

  • বেলচিং বা ঢেকুর: মুখ দিয়ে পেট থেকে গ্যাস নির্গত হয়।
  • পেট ফাঁপা: মলদ্বার দিয়ে গ্যাস নির্গত হয়।
  • পেট ফুলে যাওয়া:  পেট ভরা বা শক্ত শক্ত অনুভব হওয়া।
  • পেটে ব্যথা বা অস্বস্তি: পেটে  হালকা ব্যথা থেকে তীব্র ব্যথা পর্যন্ত হতে পারে।
  • বমি বমি ভাব: পেটে অস্বস্তি অনুভব হয় এবং বমি বমি ভাব হয়। অনেক সময় বমিও হতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: ১-২ দিন পরপর মলত্যাগের বেগ হওয়া বা মল ত্যাগ করতে অসুবিধা।  শুকনো এবং শক্ত মল নিষ্কাশন।
  • ডায়রিয়া: ঘন ঘন পাতলা মলত্যাগ।
  • পেটে ভুটভাট শব্দ : পেটে ভুটভাট শব্দ মূলত অন্ত্রের মধ্য দিয়ে গ্যাসের চলাচলের কারণে হয়।

এটি লক্ষ করা গুরুত্বপূর্ণ যে পেটে গ্যাস বিভিন্ন কারণে হতে পারে, যেমন নির্দিষ্ট খাবার, পানীয়, ওষুধ বা চিকিৎসা পদ্ধতি। আপনি যদি এই উপসর্গগুলো নিয়মিত অনুভব করেন তবে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা নিন।

পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম | গ্যাস্ট্রিক দূর করার ব্যায়াম

কারো গলা বুক জ্বালা, পেট ফাঁপা, কারো আবার গ্যাসের সমস্যা। এসব সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে, পেটের গ্যাস বের করার ব্যায়াম সবচেয়ে কার্যকর। ঔষধ খাওয়ার চাইতে আপনি যদি, নিয়মিত নিচে উল্লেখিত ব্যায়াম গুলো করেন তাহলে খুব সহজেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন।

বেশ কিছু ব্যায়াম আছে যা পেটের গ্যাস কমাতে সাহায্য করতে পারে। এর মধ্য থেকে এখানে পাঁচটি উল্লেখ করা হলো:

১। হাঁটা:  খাওয়ার পরে, শরীর খাদ্যকে ভেঙ্গে যেখানে প্রয়োজন সেখানে পুষ্টি পাঠাতে শুরু করে। ডা. ডিলগাডো বলেন, “হাঁটা এই প্রক্রিয়াটিকে দ্রুত এবং সহজ করে তোলে”। খাবার দ্রুত হজম হলে পেটের গ্যাস হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়।  আপনি যদি প্রায়শই পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন তাহলে খাওয়ার পর অন্ততপক্ষে ৫ মিনিট হাঁটুন। বিশেষ করে রাতের খাবারের পর।

২। যোগব্যায়াম ভঙ্গি: কিছু যোগব্যায়াম ভঙ্গি, যেমন: উপবিষ্ট মোচড় এবং বায়ু উপশমকারী ভঙ্গি, গ্যাস এবং পেট ফাঁপা উপশম করতে সহায়তা করতে পারে।

৩। পেটের ম্যাসেজ: ঘড়ির কাঁটার দিকে আস্তে আস্তে পেট ম্যাসাজ করা আপনার অন্ত্রের মাধ্যমে গ্যাসের চলাচল উদ্দীপিত করতে সাহায্য করবে এবং পায়ুপথ দিয়ে বের হয়ে যাবে।

৪। কোর এক্সারসাইজ:  আপনার মূল পেশীকে শক্তিশালী করা, যেমন প্লাঙ্ক বা ক্রাঞ্চের মাধ্যমে, হজম শক্তি বাড়াতে এবং গ্যাসের সমস্যা কমাতে এটি খুবই কার্যকরী ব্যায়াম।

৫। উচ্চ-তীব্রতা ব্যবধান প্রশিক্ষণ (HIIT): উচ্চ-তীব্রতার ব্যবধান প্রশিক্ষণ করা, যেমন: দড়ি লাফ, জাম্পিং জ্যাক, জায়গায় জগিং, লং-ডিসটেন্স রানিং, স্কোয়াট জাম্প, ফ্রগি জাম্প, সাইড টু সাইড জাম্পিং লাঞ্জস। পেটে র*ক্ত ​​প্রবাহ বৃদ্ধি করে ফোলাভাব এবং গ্যাস কমাতে সাহায্য করে, অন্ত্রের মধ্য দিয়ে গ্যাস বের করে দিতেও সাহায্য করে।

এটা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রত্যেকের শরীরের ধরন ভিন্ন। যে পদ্ধতি একজনের কাজে লাগবে তা অন্যজনের ক্ষেত্রে কাজ নাও করতে পারে। তাই যে কোন ব্যায়াম করার পূর্বে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর উপায়

হঠাৎ করে যদি আপনার পেটে গ্যাসের সমস্যা হয়, তবে হাফ চা চামচ কাঁচা জিরের গুঁড়ো এক গ্লাস উষ্ণ পানিতে মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন। এতে দ্রুত পেটের গ্যাস কমবে এবং আপনার শরীরেরও কোন ক্ষতি হবে না। 

এছাড়াও আপনি খেতে পারেন লবঙ্গ। ২-৩ টি লবঙ্গ ভালো করে চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস উষ্ণ  পানি পান করুন। এতে দ্রুত পেটের গ্যাস কমবে। 

হঠাৎ করে পেটে গ্যাস, এসিডিটি, টক ঢেকুর হচ্ছে, তাহলে এক ইঞ্চি আদা কেটে ভালোভাবে ধুয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। তাহলে দ্রুত এসিডিটি কমে যাবে।

পেটের গ্যাস কমানোর খাবার

খাদ্য তালিকায় নিয়মিত এই খাবারগুলো রাখলেই কমবে পেটের গ্যাসের সমস্যা।

  • কলা
  • ঠান্ডা দুধ
  • ডাবের পানি
  • আদার রস
  • লবঙ্গ 
  • কাঁচা জিরে
  • আমলকি
  • শসা
  • দই
  • পেঁপে
  • কমলা
  • দারুচিনি
  • এলাচ
  • পুদিনা পাতা
  • আমড়া
  • মৌরির পানি
  • সরষে
  • রসুন
  • মেথি

উপরে উল্লেখিত খাবারগুলো একেকজনের শারীরিক গঠনের উপর ভিত্তি করে একেক রকম কাজ করবে। কারো হয়তো এসিডিটি কমতে পারে। কারো হয়তো কোন খাবারে সমস্যা হতে পারে। তাই, খাবারটি খেলে আপনার শারীরিক কোনো সমস্যা হয় না সেটি খাবেন। 

গ্যাসের সমস্যা দূর করার ঘরোয়া উপায়

পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম। গ্যাস্ট্রিক কমাতে যোগাসন করুন
পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম। গ্যাস্ট্রিক কমাতে যোগাসন করুন

উপরে উল্লেখিত পেটের গ্যাস কমানোর খাবার গুলো সঠিক নিয়মে খেলে আপনি ঘরোয়া উপায় এ গ্যাসের সমস্যা দূর করতে পারবেন। 

পেটের গ্যাস কমানোর ঔষধ

রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোন ধরনের ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। পেটে গ্যাসের সমস্যা যদি অতিরিক্ত হয় কোন ঘরোয়া পদ্ধতিতেই ভালো না হয় তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন। পেটের গ্যাস কমানোর জন্য অনেক ঔষধ পাওয়া যায়। তার মধ্য থেকে কিছু ঔষধের নাম নিচে উল্লেখ করলাম।

  • এস ওমেপ্রাজল
  • ওমেপ্রাজল
  • রেবিপ্রাজল
  • প্যানটোপ্রাজল
  • ল্যানসোপ্রাজল
  • সেকলো
  • রেনিটিডিন
  • ম্যাক্স প্রো
  • প্যানটোনিক্স
  • ওম্যাগ
  • এন্টাসিড
  • লোসেকটিল

বাজারে যে পেটের গ্যাস কমানোর ঔষধ গুলো পাওয়া যায়, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন সেবন করলে আপনার শরীরের বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হতে পারে। এমনকি আপনার কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

পেটের গ্যাস কমানোর হোমিও ঔষধ

  • নাক্স ভোম
  • কার্বো ভেজ 
  • লাইকোপোডিয়াম 
  • আয়োডিয়াম
  • চাইনা
  • রাফানাস
  • ম্যাগনেসিয়াম ফস
  • অ্যাবিজ ক্যান
  • গ্রাফাইটস

সঠিক চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যাওয়ায় এবং তাকে আপনার শরীরের সমস্যাগুলো কথা খুলে বলা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডাক্তার আপনার অবস্থা এবং উপসর্গগুলি যত ভালভাবে বোঝবেন, ততই তিনি আপনার  ভাল চিকিৎসা করতে পারবেন। ঔষধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিবেন।

চিরতরে গ্যাস দূর করার উপায়

আপনি কি দীর্ঘদিন যাবৎ গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন? আজকে আমি আপনাদের চিরতরে গ্যাস দূর করার উপায় সম্পর্কে বলবো। 

  • ১। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে এক চামচ কাঁচা জিরা একগ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সকালে ঘুম থেকে থেকে উঠে খালি পেটে এই জিরার পানি পান করুন অথবা পানি ফেলে দিয়ে জিরাগুলো চিবিয়ে খেয়ে নিন। এভাবে আপনি নিয়মিত কাঁচা জিরা এক মাস খেলে চিরতরে গ্যাস দূর হবে ইনশাল্লাহ।
  • ২। যারা প্রচন্ড গ্যাসের সমস্যায় ভুগছেন, প্রতিদিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে দু’টি লবঙ্গ ভালোভাবে চিবিয়ে খেয়ে এক গ্লাস উষ্ণ পানি পান করুন তাহলে কিছুদিন পর দেখবেন গ্যাসের সমস্যা একেবারেই নেই।

বাচ্চাদের পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম

রাতে ঘুমাতে পারছে না, বাচ্চা অতিরিক্ত কান্নাকাটি করছে, খাওয়া-দাওয়া করতে চাচ্ছেনা, খাওয়ার পর মোচড়ানো, এবং পেট শক্ত হয়ে থাকে এরকম যদি সমস্যাগুলো দেখা দেয় তাহলে বুঝতে পারবেন বাচ্চার পেটে গ্যাস হয়েছে। কিছু ব্যায়ামের মাধ্যমে বাচ্চাদের পেটে গ্যাসের সমস্যা কমানো যায়। 

নিম্নে উল্লেখিত কিছু ব্যায়াম নিয়মিত করানোর মাধ্যমে আপনি শিশুদের পেটের গ্যাস বের করে দিতে পারেন।

  • ১. পেটের মালিশ
  • ২. ফুলিঙ্গ
  • ৩. মুনওয়াকিং
  • ৪. হাঁটু ওপরে করুন
  • ৫. সার্কুলার ম্যাসাজ
  • ৬. খাওয়ার পরে ঢেকুর তোলা

সকালে কি খেলে গ্যাস হবে না

কলা: সকালে খালি পেটে কলা খেতে পারেন। কারণ কলাতে থাকে পটাশিয়াম যা প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড এর কাজ করে। 

তুলসী পাতার চা: চাতে তুলসী পাতা দিয়ে কিছুক্ষণ ফুঁটিয়ে নিন তারপর খালি পেটে পান করুন।

মৌরি: মৌরি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খালি পেটে চিবিয়ে খেতে পারেন।

পেটে গ্যাস হলে কি শ্বাসকষ্ট হয়

পেঠ ফুলে উঠে শক্ত হলে, বা পেটে গ্যাস হলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয় না। কারণ, শ্বাস কষ্ট সাধারণত হার্টের সমস্যা থাকলে হয়। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত গ্যাসের সমস্যা হলে শ্বাসকষ্ট হতেও পারে।

পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম সম্পর্কে শেষ কথা,

আশাকরি, পেটের গ্যাস কমানোর ব্যায়াম, গ্যাস্ট্রিক দূর করার ব্যায়াম, দ্রুত পেটের গ্যাস কমানোর খাবার, কমানোর উপায়, ঔষধ, হোমিও ঔষধ, এবং চিরতরে দূর করার উপায় সম্পর্কে জেনে আপনি উপকৃত হয়েছেন।

Leave a Comment